ধনী হওয়ার একটি সুপ্ত বাসনা কিন্তু আমাদের সবার বুক পাজরের মধ্যে লুকায়িত থাকে৷ কেননা স্বার্থের পেছনে ছোটা এই সমাজে টিকে থাকতে হলে অর্থের কোন বিকল্প নেই। এই অর্থকে নিজের বুক পকেটে আনার সবথেকে ভালো উপায় হলো ব্যবসা। তবে অনেকের একটি ভুও ধারণা যে "ব্যবসা করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন" এই ভুল ধারণা পোষণ করায় অনেকে ব্যবসায় হাত দিতে ভয় পায়৷ তবে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা দাড় করানো সম্ভব। কথায় আছে বিন্দু বিন্দু শিশির কনা থেকেই বিরাট জলাশয় হয়৷
তাই আপনাদের জন্য ৫টি স্বল্প পুঁজির ব্যবসার কিছু সফল আইডিয়া নিয়ে এই পর্বটি সাজিয়েছি, আশা রাখছি আপনারা উপকৃত হবেন৷
১। আমদানি এবং বিক্রয়
আমাদের এই ডিজিটাল যুগে এই ব্যবসাটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ চায়না কিংবা বিভিন্ন দেশ থেকে কম দামে পন্য আমদানি করে সেই পন্যকে চড়া মূল্যে অনলাইন কিংবা অফলাইনে এ দেশে বিক্রি করছে। ফলশ্রুতিতে স্বল্প পুঁজি ইনিভেস্ট করে এই ব্যবসায় থেকে তারা লাভবান হচ্ছে৷ সুতরাং আপনিও এই ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পারেন৷
২। পর্যটন সেবা
বাংলাদেশ একটি মনমুগ্ধকর দেশ। যার সবুজের আভায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এখানে রয়েছে চোখ জুড়ানোর মত অনেক পর্যটন স্পট। এবং রিসার্চে দেখা দেখে মানুষ এখন ট্রাভেলের দিকে ঝুকছে। তারা আগের তুলনায় বেশি ভ্রমণপ্রিয় হয়ে উঠছে৷ তাই আপনার উচিৎ এই সুযোগটা লুফে নেওয়া। আপনি ফেইসবুক গ্রুপ বা বিভিন্ন সাইটে টুরিজিম এর পেইজ খুলে, ট্যুর প্লানার হতে পারেন৷ বাস, হোটেল, ট্যুর স্পট সিকেল্ট করে বিভিন্ন প্যাকেজ তৈরী করতে পারেন। এতে করে ভ্রমণ পিপাষি মানুষ তাদের হ্যাসেল কমাতে আপনার প্যাকেজ গ্রহণ করবে। ফলে কোন প্রকার বড় অংকের পুজি ছাড়াই আপনি এই বিজনেসটি দাড় করাতে পারেন৷
৩. অনলাইন শিক্ষামূলক কোর্স
প্যাসিভ আর্নিং এর ব্যাপারটা এখন বাংলাদেশেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে৷ মানুষ এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ উপার্জনের দিকে ঝুকছে৷ রিসার্চ বলছে এই মার্কটের পরিধি এখন কল্পনারও বাইরে।তাই এই বিষয়ে যদি আপনার কোনও বিশেষ দক্ষতা থাকে যা আপনি অন্যদের শেখাতে পারেন, তাহলে এটি হতে পারে আপনার ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি। আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী একটি অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষামূলক কোর্স তৈরি করতে পারেন। এবং বিভিন্ন মাধ্যমে এটার প্রচার প্রসার ঘটিয়ে মানুষের কাছে পৌছে দিয়ে রোজগার করতে পারেন৷
৪। হ্যান্ড-ক্রাফট বিক্রয়
আমাদের দেশে হাতের তৈরী পন্যের কদর আকাশচুম্বী। মানুষ ভালো কাজকে লুফে নেয়। এবং হাতের কাজ করা পন্যের দামও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি৷ তাই এ ব্যাপারে যদি আপনার কোন দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি সেটাকে কাজে লাগাতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আপনার পুজিও কম লাগবে৷ অথবা আপনি আপনার আশেপাশে হ্যান্ড ক্রাফটের উপর পারদর্শী এমন মানুষ খুজে বের করে তাদের একটি দল গঠন করতে পারেন৷ এবং তৈরী প্রডাক্ট অনলাইন প্লাটফর্মে, ওয়েবসাইট অথবা অফলাইনেও বিক্রি করে সাবলম্বি হতে পারবেন।
৫। ব্লগিং এবং ইনফরমেশন প্রদান
বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল যুগে পদার্পন করেছে। মানুষের মধ্যে অনলাইনে সময় কাটানো প্রবনা বাড়ছে৷ আগে যেখানে সব খবর মানুষ টিভিতে দেখতো এখন আর তেমনটা নেই। সবার কাছেই এখন একটা স্মার্টফোন রয়েছে এবং তারা এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্লগ সাইট, পেইজ এসব থেকেই ইনফরমেশন এবং প্রয়োজনীয় নিউজ জানতে পারে৷ তাই এই বিশাল মার্কেটের সুযোয় কাজে লাগাতে আপনি একটি ব্লগ সাইট খুলতে পারেন৷ লেখালিখির দক্ষতা যদি থাকে তাহলে পুঁজি এই কৌশলটি আপনাকে প্রচুর অর্থের যোগান দেবে৷
আর যদি আপনি লিখতে না পারেন তাহলে লিখতে পারে এমন কাউকে অর্থের বিনিময়ে হায়ার করে ব্লগ সাইটি চালাতে পারেন এবং উপার্জন করতে পারেন।
উপরে স্বল্প পুঁজির ব্যবসার কয়েকটি সফল আইডিয়া, নিজের দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার উপর ভিত্তি করে এই আইডিয়াগুলো জেনারেট করে আর্থিক সীমার মধ্যে সঙ্গতপূর্ণ ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন বলে আশা করি।
ধন্যবাদ

0 Comments